যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

বর্তমান সমস্যা নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে প্রতিদিন যানজট লেগেই থাকে। স্কুল, অফিস ও বাজার এলাকায় চলাচল কঠিন হয়ে পড়ে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিক হয়নি, ফুটপাত দখল এবং পরিকল্পনাহীন পার্কিং। আমার প্রস্তাবিত সমাধান Ward-wise Traffic Plan, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন এবং স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল চালু করবো। ফুটপাত হবে পথচারীদের জন্য—দখলমুক্ত নগর গড়বো।
স্থানীয় অর্থনীতি

বর্তমান সমস্যাবেকারত্ব বাড়ছে, ছোট ব্যবসায়ীরা নানা জটিলতায় পড়ছেন, উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কেন সমাধান হয়নিকারণ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ছিল না। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: -আমি চাই ময়মনসিংহ হোক small business and startup friendly city. ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ্য থেকে অনুদান দেয়া এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগ পেতে সহায়তা করা।পাশাপাশি অফিস স্পেস এর ব্যবস্থা করা। -মেড ইন ময়মনসিংহ প্রোডাক্টস যেমন বিখ্যাত মিষ্টান্ন দ্রব্য সহ সকল পণ্যের জাতীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে সারাদেশ ব্যাপি বিক্রয়ের পরিবেশ তৈরি করা। -নগরীর বিভিন্ন পর্যটক স্থান এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে ব্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।
দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনাঃ

বর্তমান সমস্যা অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা বা জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া পাওয়া যায় না। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ জরুরি ব্যবস্থার জন্য আলাদা প্রস্তুতি ও সমন্বয় নেই। আমার প্রস্তাবিত সমাধান Ward-based Emergency Response Team, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করবো। দুর্যোগ আসার আগে প্রস্তুতি এটাই হবে নীতি।
পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনাঃ

বর্তমান সমস্যা আবর্জনা নিয়মিত সংগ্রহ হয় না, ডাস্টবিনের অভাব এবং খোলা জায়গায় ময়লা ফেলার প্রবণতা নগর পরিবেশকে অস্বাস্থ্যকর করে তুলেছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার অভাব, কর্মীদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ না থাকা এবং নাগরিক সচেতনতার ঘাটতি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আধুনিক ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও নাগরিকদের সচেতন করতে গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি জোরদার করা জরুরি।
গ্রীণ ময়মনসিংহ

বর্তমান সমস্যা দ্রুত নগরায়নের ফলে গাছ কমে যাচ্ছে, খোলা জায়গা নষ্ট হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। কেন সমাধান হয়নিকারণ উন্নয়নের সাথে পরিবেশ রক্ষার সমন্বয় করা হয়নি এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম টেকসই হয়নি। আমার প্রস্তাবিত সমাধাণ: প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রিন করিডোর ও পার্ক তৈরি করবো। রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, স্কুল–কলেজ ও মসজিদকেন্দ্রিক সবুজ কর্মসূচি চালু হবে। গ্রীণ ময়মনসিংহ গড়তে প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ্য বৃক্ষ রোপণ এবং পরিচার্যার ব্যাবস্থা করবো। সেই সাথে গ্রীণ ময়মনসিংহ ক্যাম্পেইনে নাগরিকদের সংযুক্ত করবো।
শিক্ষা ও যুব উন্নয়নঃ

বর্তমান সমস্যা যুবসমাজের একটি বড় অংশ দক্ষতা ও দিকনির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে।খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি চর্চার সুযোগ সীমিত। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ যুব উন্নয়নকে ব্যয় হিসেবে দেখা হয়েছে, বিনিয়োগ হিসেবে নয়। আমার প্রস্তাবিত সমাধান সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে Youth & Skill Development Program চালু করবো।আইটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুবকদের যুক্ত করা হবে,যাতে তারা অপরাধ নয়, সম্ভাবনার পথে হাঁটে।
পশু পাখিদের বসবাসযোগ্য শহর গড়ে তুলবোঃ

আমার প্রস্তাবিত সমাধানঃ -পশু-পাখিদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব হসপিটাল তৈরি এবং ২৪ ঘন্টা ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার ব্যবাস্থা করা।যেমন একটি ডেডিকেটেড এম্বুলেন্স রাখা, যখনি আপনি রাস্তায় কোন পশু পাখিকে আহত অবস্থায় দেখবেন হটলাইন নাম্বারে কল দেওয়ার সাথে সাথে উক্ত স্থানে এম্বুলেন্স পৌছে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিবে। আপনার গৃহপালিত পশু পাখি থেকে শুরু করে রাস্তার পশু পাখিদের জন্যও গড়ে তুলবো বসবাসযোগ্য নগরী। -নগরীর প্রত্যেকটি কুকুরকে সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ হতে জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন প্রদান এবং লাইটনিং বেল্ট পড়ানো হবে যেন রাতের আধারে কোন পশুই গাড়িচাপার শীকার না হয়।
ডিজিটাল সিটি ও স্বচ্ছ প্রশাসনঃ

বর্তমান সমস্যা নাগরিক সেবা পেতে হয়রানি, দালাল ও দীর্ঘসূত্রিতা সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ সেবাগুলো ডিজিটাল হয়নি এবং জবাবদিহিতা নেই। আমার প্রস্তাবিত সমাধান ট্রেড লাইসেন্স, নাগরিক সনদ, অভিযোগ – সবকিছু Online & Trackable System–এ আনবো। দুর্নীতি কমাতে ডিজিটাল ট্রেইল নিশ্চিত করবো।
সুশাসন ও নাগরিক বান্ধব প্রশাসনঃ

বর্তমান সমস্যা নগর প্রশাসনে সাধারণ মানুষ প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়। ফাইল আটকে রাখা, দালাল নির্ভরতা ও জবাবদিহিতার অভাব নাগরিক আস্থা নষ্ট করছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ প্রশাসনকে নাগরিকের সেবক নয়, ক্ষমতার যন্ত্র হিসেবে দেখা হয়েছে। স্বচ্ছতা ও প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত ছিল। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আমি চাই একটি Transparent, Accountable & Citizen-First Administration।সব নাগরিক সেবা হবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং অনলাইনে ট্র্যাকযোগ্য।মেয়রের দপ্তর হবে Open Office – যেখানে মানুষ সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবে।দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান হবে স্পষ্ট ও আপসহীন।