গ্রীণ ময়মনসিংহ

বর্তমান সমস্যা দ্রুত নগরায়নের ফলে গাছ কমে যাচ্ছে, খোলা জায়গা নষ্ট হচ্ছে, তাপমাত্রা বাড়ছে। কেন সমাধান হয়নিকারণ উন্নয়নের সাথে পরিবেশ রক্ষার সমন্বয় করা হয়নি এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম টেকসই হয়নি। আমার প্রস্তাবিত সমাধাণ: প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রিন করিডোর ও পার্ক তৈরি করবো। রাস্তার পাশে পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ, স্কুল–কলেজ ও মসজিদকেন্দ্রিক সবুজ কর্মসূচি চালু হবে। গ্রীণ ময়মনসিংহ গড়তে প্রতি বছর জুন-জুলাই মাসে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ১ লক্ষ্য বৃক্ষ রোপণ এবং পরিচার্যার ব্যাবস্থা করবো। সেই সাথে গ্রীণ ময়মনসিংহ ক্যাম্পেইনে নাগরিকদের সংযুক্ত করবো।
মাদকমুক্ত ময়মনসিংহঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীতে মাদক একটি নীরব কিন্তু ভয়ংকর সংকটে পরিণত হয়েছে। তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথে যাচ্ছে, পরিবার ভাঙছে, অপরাধ বাড়ছে। অনেক এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদকের লেনদেন চলছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ শুধু অভিযানের উপর নির্ভর করা হয়েছে, কিন্তু সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়নি। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্থানীয় নজরদারি ও পুনর্বাসনের অভাব এই সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করেছে। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আমি বিশ্বাস করি, মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই হবে আইন + সমাজ + পুনর্বাসন – এই তিন স্তরে।প্রতিটি ওয়ার্ডে Anti-Drug Community Committee, যুবকদের জন্য খেলাধুলা ও স্কিল প্রোগ্রাম, এবং মাদকাসক্তদের জন্য কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু করবো।মাদক ব্যবসায়ীর জন্য থাকবে Zero Tolerance, আর মাদকাসক্তের জন্য থাকবে ফেরার সুযোগ।
রাস্তা ও ড্রেনেজঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীর অনেক সড়ক এখনো ভাঙাচোরা, অসমতল ও জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত। বর্ষা মৌসুম এলেই ড্রেন উপচে পানি রাস্তায় উঠে আসে, যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন, নিম্নমানের কাজ, একাধিক সংস্থার সমন্বয়ের অভাব এবং স্থায়ী সমাধানের বদলে অস্থায়ী প্যাচওয়ার্ক সংস্কৃতি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান আমি চাই ওয়ার্ডভিত্তিক মাস্টার ড্রেনেজ প্ল্যান। রাস্তা করার আগে ড্রেনেজ – এই নীতি বাস্তবায়ন করবো। ঠিকাদারি কাজ হবে স্বচ্ছ টেন্ডারের মাধ্যমে, এবং কাজের মান নিয়ন্ত্রণে নাগরিক মনিটরিং চালু করা হবে। লক্ষ্য হবে একবারে টেকসই কাজ, বারবার মেরামত নয়।
আলো ও নিরাপত্তাঃ

বর্তমান সমস্যা অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট নেই বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে রাতের বেলা চুরি, ছিনতাই ও নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আলো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব না দেওয়া, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান না নেওয়া। আমার প্রস্তাবিত সমাধান নগরজুড়ে LED ও Solar Street Light বসানো হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লাইট মেইনটেন্যান্স টিম থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আলো + সিসিটিভি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে, যাতে নাগরিকরা রাতে নিশ্চিন্তে চলাফেরা করতে পারেন।
পানি সরবরাহ ও জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনাঃ

বর্তমান সমস্যা ময়মনসিংহ নগরীর অনেক এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। কোথাও পানির চাপ কম, কোথাও আবার পানিতে দুর্গন্ধ ও দূষণের অভিযোগ। জলাবদ্ধতার কারণে পানিবাহিত রোগও বাড়ছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ আধুনিক পানি শোধন ব্যবস্থা নেই, লিকেজ নিয়ন্ত্রণ হয় না এবং পানির উৎস সংরক্ষণে পরিকল্পনার অভাব। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: পানি সরবরাহকে ড্রেনেজের সাথে সমন্বিত করে Modern Water Management System চালু করবো। খাল খনন, নিয়মিত পানির মান পরীক্ষা, লিকেজ শনাক্তকরণ এবং বিকল্প পানি উৎস সংরক্ষণ নিশ্চিত করবো।
স্থানীয় অর্থনীতি (কর্মসংস্থান, ব্যবসা ও পর্যটন পরিবেশ)

বর্তমান সমস্যা বেকারত্ব বাড়ছে, ছোট ব্যবসায়ীরা নানা জটিলতায় পড়ছেন, উদ্যোক্তারা সহযোগিতা পাচ্ছেন না। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা ছিল না। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: -আমি চাই ময়মনসিংহ হোক Small Business and Startup Friendly City. ট্রেড লাইসেন্স সহজীকরণ, নারী ও যুব উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক অবস্থায় সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ্য থেকে অনুদান দেয়া এবং পরবর্তীতে বিনিয়োগ পেতে সহায়তা করার পাশাপাশি অফিস স্পেস এর ব্যবস্থা করা। -মেইড ইন ময়মনসিংহ প্রোডাক্টস যেমন বিখ্যাত মিষ্টান্ন দ্রব্য সহ সকল পণ্যের জাতীয় পর্যায়ে ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে সারাদেশ ব্যাপি বিক্রয়ের পরিবেশ তৈরি করা। -নগরীর বিভিন্ন পর্যটক স্থান এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো জাতীয় পর্যায়ে ব্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করা।
স্বাস্থ্য ও নাগরিক সেবাঃ

বর্তমান সমস্যা নগর স্বাস্থ্যসেবা সীমিত, সরকারি সেবায় ভোগান্তি ও দালালচক্র সাধারণ মানুষের জন্য বড় বাধা। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ সেবাকে নাগরিকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার অভাব। আমার প্রস্তাবিত সমাধান ওয়ার্ডভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মোবাইল মেডিকেল ক্যাম্প এবং ডিজিটাল নাগরিক সেবা চালু করবো। সেবা পেতে দৌড়ঝাঁপ নয়—সেবা পৌঁছে যাবে নাগরিকের কাছে।
শিক্ষা ও যুব উন্নয়নঃ

বর্তমান সমস্যা যুবসমাজের একটি বড় অংশ দক্ষতা ও দিকনির্দেশনার অভাবে পিছিয়ে পড়ছে।খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও প্রযুক্তি চর্চার সুযোগ সীমিত। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ যুব উন্নয়নকে ব্যয় হিসেবে দেখা হয়েছে, বিনিয়োগ হিসেবে নয়। আমার প্রস্তাবিত সমাধান সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে Youth & Skill Development Program চালু করবো।আইটি, কারিগরি প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন দেশের ভাষা শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে যুবকদের যুক্ত করা হবে,যাতে তারা অপরাধ নয়, সম্ভাবনার পথে হাঁটে।
নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী বান্ধব নগরঃ

বর্তমান সমস্যা নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীরা নগরের অনেক সেবাই সহজে ব্যবহার করতে পারে না। নিরাপত্তা ও চলাচলে বাধা রয়েছে। কেন সমাধান হয়নি ? কারণ নগর পরিকল্পনায় তাদের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। আমার প্রস্তাবিত সমাধান: -ওয়ার্ড ভিত্তিক নারী পাবলিক টয়লেট স্থাপন করবো যেখানে সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকেফ্রি সেনিটারি ন্যাপকিন বুথ স্থাপন করা হবে। -নিরাপদ পার্ক, প্রতিবন্ধী বান্ধব র্যাম্প এবং আলাদা হেল্পলাইন চালু করবো। নগর হবে সবার জন্য শক্তিশালীর জন্য নয়।
পশু পাখিদের বসবাসযোগ্য শহর গড়ে তুলবোঃ

আমার প্রস্তাবিত সমাধানঃ -পশু-পাখিদের জন্য সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব হসপিটাল তৈরি এবং ২৪ ঘন্টা ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার ব্যবাস্থা করা।যেমন একটি ডেডিকেটেড এম্বুলেন্স রাখা, যখনি আপনি রাস্তায় কোন পশু পাখিকে আহত অবস্থায় দেখবেন হটলাইন নাম্বারে কল দেওয়ার সাথে সাথে উক্ত স্থানে এম্বুলেন্স পৌছে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিবে। আপনার গৃহপালিত পশু পাখি থেকে শুরু করে রাস্তার পশু পাখিদের জন্যও গড়ে তুলবো বসবাসযোগ্য নগরী। -নগরীর প্রত্যেকটি কুকুরকে সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ হতে জলাতঙ্ক ভ্যাক্সিন প্রদান এবং লাইটনিং বেল্ট পড়ানো হবে যেন রাতের আধারে কোন পশুই গাড়িচাপার শীকার না হয়।